মানিকগঞ্জে বাসচাপাড়ে প্রাণ গেল ১০ মাস বয়সী শিশুসহ মায়ের

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক নারী ও তার দশ মাস বয়সী কন্যাসন্তান নিহত হয়েছেন। বেপরোয়া গতি এবং বিপরীত দিক থেকে আসা যান চলাচলের নৈরাজ্যের কারণে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই নিভে দুটি তাজা প্রাণ, যা শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে পুরো এলাকায়।

নিহতরা হলেন—সোনিয়া (২৬) এবং তার দশ মাস বয়সী শিশু কন্যা জান্নাত। নিহত সোনিয়া শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ পয়লা গ্রামের বাসিন্দা আরফান আলী শেখের মেয়ে।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত সোনিয়ার স্বামী, মোটরসাইকেল চালক আবুল হোসেন জানান, শনিবার সকালে তিনি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে কর্মস্থল টাঙ্গাইলের দিকে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কের টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছুটে আসে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি।

তিনি ক্ষোভ ও বেদনার সঙ্গে আরও বলেন, বাসটি সম্পূর্ণ উল্টোপথে (রং সাইডে) আসছিল। হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে সোনিয়া কোলের শিশুটিকে নিয়ে মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এ সময় ঘাতক বাসের চাকার নিচে চাপা পড়ে তারা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোনিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু জান্নাতও মারা যায়। বাসটি যদি নিয়ম মেনে সঠিক পথে চলত, তবে এমন অকালমৃত্যু দেখতে হতো না।

এ বিষয়ে বরঙ্গাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইতোমধ্যে উথলী এলাকা থেকে ঘাতক গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটিকে জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই বাসের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানেধীন রয়েছে।

এদিকে এমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালনা ও উল্টোপথে যান চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা এবং শোকাহত পরিবার। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘাতক চালককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

০%
০%
০%
০%