নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছাদের ওপর দিয়ে যাওয়া অরক্ষিত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে একটি বেসরকারি মহিলা মাদরাসার পাঁচ শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ফতুল্লা থানার হাজীপাড়া এলাকার মালেহা মহিলা মাদরাসায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধ শিক্ষার্থীরা হলো— জিদনী (১৪), লামিয়া (১৩), সুমাইয়া (১৩), আসিয়া (১২) এবং আতিয়া (১১)। এদের মধ্যে অন্তত দুজনের মুখমণ্ডলসহ শরীরের উল্লেখযোগ্য অংশ পুড়ে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ওই মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ভবনের ছাদে যায়। এ সময় ছাদের অত্যন্ত কাছ দিয়ে যাওয়া অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে হঠাৎ তারা বিদ্যুতায়িত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ ঘটনায় আশপাশের লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসে দগ্ধদের উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
ঘটনার বিষয়ে মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুর রহমান জানান, সাধারণত শিক্ষার্থীরা এ সময় ছাদে যায় না। তবে বিকেলে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাদে উঠে এবং দুর্ভাগ্যবশত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, শিক্ষার্থীরা ছাদেক আখ নিয়ে খেলাধুলা করছিল। কোনো একপর্যায়ে আখের সঙ্গে মাথার ওপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ ঘটলে বড় ধরনের স্পার্ক সৃষ্টি হয় এবং তারা দগ্ধ হয়। খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ সিকদার জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হয়ে বেশ কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে তাদের নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।