শেখ মুজিব অতীতে যুবসমাজকে ব্যবহার করে রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিলেন উল্লেখ করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বরিশাল বিভাগীয় যুব পরিচালক ইয়াসির আরাফাত অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারও যুবকদের দলীয় ক্যাডার বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ক্যাডারদের মাধ্যমে দেশে টেন্ডারবাজি, লুটতরাজ ও দখলের মতো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার ভোলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা যুব বিভাগের আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যুবকদের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইয়াসির আরাফাত বলেন, দলীয় পরিচয়ের আড়ালে একটি চক্র চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। দেশের যুবকদের প্রশিক্ষণ ও আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও তার এক শতাংশও তাদের কল্যাণে ব্যয় হয় না। যার ফলে দেশের সম্ভাবনাময় যুবসমাজ আজ চরম বেকারত্ব ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুবসমাজের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগ দেশের যুবসমাজকে পরনির্ভরশীল না রেখে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করতে চায়। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যুবকরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সেই সংগ্রামের চেতনা ও ধারাবাহিকতা টিকিয়ে রেখে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করতে বদ্ধপরিকর।
ভোলা জেলা যুব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আমির হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা আমির মাস্টার জাকির হোসাইন, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি কাজী হারুনুর রশিদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন।
এছাড়াও সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ আব্বাস উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, কামাল হোসেনসহ স্থানীয় জামায়াত ও যুব বিভাগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। ভোলা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যুব প্রতিনিধিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিলনায়তন মুখরিত হয়ে ওঠে। সম্মেলন শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে, যেখানে যুব বিভাগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।