গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ভবন ধসের ঘটনায় ছয়জন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাਤੇ জানা গেছে, অ্যাক্রোপলিসের পাদদেশে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা প্লাকায় গত শুক্রবার এই মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি তীব্র গ্যাস লিকের কারণেই দুই তলার ছোট ভবনটি ধসে পড়ে এবং এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রিক রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার চারজন ভুক্তভোগীর কাছে পাওয়া নথিপত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পরীক্ষা করে জানা যায় যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। মৃতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন। এছাড়া অন্য দুই ভুক্তভোগী হলেন দ্বিতীয় তলায় বসবাসকারী এক বয়স্ক দম্পতি—যাদের একজন ব্রিটিশ পুরুষ এবং অন্যজন গ্রিক নারী। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এই বিস্ফোরণের ধাক্কায় একটি সংলগ্ন ভবনের দুজন নারী আহত হয়েছেন।
এথেন্সের মেয়র হারিস দৌকাস এই ঘটনাকে একটি ‘অকল্পনীয় বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করে উল্লেখ করেছেন যে, বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি পুরো রাস্তা এবং তার পেছনের সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। তার ভাষ্যমতে, বিস্ফোরণের ফলে আশপাশের ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে খালি করা হয়েছে। এছাড়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি সংলগ্ন ভবন শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। গ্রিক দৈনিক ‘ক্যাথিমিনির’ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, নিহত চার মার্কিন পর্যটক শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টায় তাদের আবাসন ছাড়ার কথা থাকলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত ফ্লাইটে উঠতে পারেননি।
এদিকে এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের পূর্ব সতর্কবার্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে প্লাকা এলাকার একদল বাসিন্দা বিদ্যুৎ ও গ্যাস নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপক এবং পৌর কর্তৃপক্ষকে এলাকায় গ্যাস লিক বা শর্ট সার্কিটের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ‘ক্যাথিমিনি’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি চিঠিতে ওই বাসিন্দারা জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত করতে একটি নিরাপত্তা মহড়া আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এছাড়া ‘উই রিমেইন অ্যাক্টিভ’ নামক একটি নাগরিক আন্দোলন সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে যে, বিস্ফোরণস্থলের এক বাসিন্দা বেশ কিছুদিন ধরে গ্যাস নির্গমনের গন্ধ পাওয়ার কথা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন।
গ্রিক পুলিশের একজন মুখপাত্র ইআরটিতে দেওয়া বক্তব্যে বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে গ্যাস দুর্গন্ধ পাওয়ার অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট পদার্থটি কী ছিল এবং এর উৎস কোথায়, তা এখনও নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। প্রাচীন গ্রিসের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান অ্যাক্রোপলিসের পাদদেশে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক পর্যটন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এবং এর পূর্ববর্তী সতর্কবার্তা উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হয়েছে।