বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বন, দ্বীপ ও প্রবালসমৃদ্ধ অনন্য সৌন্দর্যের আধার কক্সবাজার পর্যটনে অপার সম্ভাবনাময় হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যটনবাজারে এখনো কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। বিমানবন্দর, রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন এবং শত শত হোটেল-রিসোর্টের উপস্থিতি সত্ত্বেও বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে দেশের প্রধান এই পর্যটনশহরটি।
বিশ্ব পর্যটন দিবসকে কেন্দ্র করে পর্যটন ব্যবসায়ী, পরিবেশকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলাপকালে এই স্থবিরতার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতা উঠে এসেছে। তাদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার বালি কিংবা থাইল্যান্ডের পাতায়ার মতো আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলোতে বছরজুড়ে ম্যারাথন, সংগীত উৎসব, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, জলক্রীড়া এবং ব্যবসায়িক সম্মেলনের মতো অর্ধশতাধিক বড় আয়োজন থাকে। বিপরীতে, কক্সবাজারে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ এখনো কেবল সমুদ্রসৈকত এবং যাতায়াত ও অবস্থান মূলত হোটেল, সৈকত ও রেস্তোরাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন কিংবা আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর দিয়েই বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটকদের দীর্ঘ সময় ধরে রাখার মতো পর্যাপ্ত বিনোদনের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অননুমোদিত ছবি তোলার প্রবণতা রোধ এবং হয়রানিমূলক পরিস্থিতি দূর করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এছাড়া বিদেশি পর্যটকদের জন্য সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু, সহজ ভিসাব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড এবং বহুভাষিক তথ্যসেবার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।
শুধু সমুদ্রসৈকতের প্রথাগত সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর না করে কক্সবাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বহুমুখী পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তর করতে হবে বলে মত দিয়েছেন ট্যুরস অপারেটর ও ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক পর্যটনবাজারে টিকে থাকতে হলে সৈকতভিত্তিক ধারণার বাইরে বেরিয়ে সাংস্কৃতিক উৎসব, জলক্রীড়া, আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং পারিবারিক বিনোদনের পরিধি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক প্রচারণা এবং সমন্বিত পর্যটনপণ্য তৈরির মাধ্যমেই কেবল কক্সবাজারকে বিশ্ববাসীর কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা সম্ভব।