আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে দেশের সব হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ চালুর নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ

দেশের প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের হাট-বাজারগুলোতে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে পাঠানো এক দাপ্তরিক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পাঁচতলা ভবনের ছাদের আয়তন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে সোলার প্যানেল বসাতে হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া প্রতিটি সিস্টেমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ বা সংরক্ষণ ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের মাধ্যমে গ্রিন এনার্জির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের নেওয়া দেশব্যাপী উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের দাপ্তরিক মূল ভবন ও অন্যান্য স্থাপনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলার সিস্টেম চালুর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হবে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত অর্জিত হবে, যা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব রাজস্ব আয় বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আর্থিক সংস্থানের বিষয়ে নির্দেশনায় পরিষ্কার বলা হয়েছে, ‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি ১০-এর (ঙ) ও (চ) ধারা অনুযায়ী হাট-বাজারের ইজারালব্ধ আয়ের ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট বাজারটির রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে এবং আরও ১০ শতাংশ উক্ত উপজেলার অন্যান্য হাট-বাজারের উন্নয়নে ব্যয় করার নিয়ম রয়েছে। এই নির্ধারিত তহবিল থেকেই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও এর বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ করতে হবে।

প্রকল্পের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সোলার প্যানেল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছর যাবৎ নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ জনপদের হাট-বাজারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতি সফলভাবে অর্জিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

০%
০%
০%
০%