ছ ছাড়পত্র মেলার মাস পেরিয়ে গেলেও নবীনগর পৌরসভায় ঝুলে আছে জনবল নিয়োগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার পাঁচটি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে অনাপত্তি ও ছাড়পত্র পাওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে স্থানীয় চাকরিপ্রার্থী ও সচেতন মহলে তীব্র অসন্তোষ ও নানা ধরনের গুঞ্জন ডালপালা মেলছে।

গত ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মোড সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে পাঁচটি শূন্য পদে ছয় মাস মেয়াদে জনবল নিয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। নির্ধারিত পদগুলোর মধ্যে রয়েছে নকশাকার, সহকারী কর নির্ধারক, সহকারী কর আদায়কারী, সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক এবং বিদ্যুৎমিস্ত্রি।

মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার এক মাসেরও অধিক সময় অতিবাহিত হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, কোনো প্রভাবশালী মহলের স্বার্থরক্ষা কিংবা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের গোপনে নিয়োগ দেওয়ার অসদুদ্দেশ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে এই বিলম্ব করা হচ্ছে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন না হয়ে পর্দার আড়ালে কোনো আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদগুলো পূরণের পাঁয়তারা চলছে বলেও অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় একটি সূত্র।

স্থানীয় সরকার বিভাগের স্পষ্ট নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পদগুলো পূরণের ক্ষেত্রে অন্তত একটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক, একটি স্থানীয় দৈনিক এবং পৌরসভার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে হবে। এছাড়া লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই দৈনিক হাজিরাভিত্তিক বা মাস্টাররোলে অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়া যাবে না এবং সরকার নির্ধারিত সর্বশেষ নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

সকল অভিযোগ ও গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে নবীনগর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, জনবল নিয়োগের ছাড়পত্রটি তারা সম্প্রতি হাতে পেয়েছেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ রাখতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিনিধি চেয়ে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে প্রতিনিধি পাওয়ার পরপরই স্থানীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ নিয়োগ কমিটি গঠন করা হবে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তার দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

একই সুরে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তারিকুল ইসলাম জানান, নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার লক্ষে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রতিনিধি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের সকল নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের গোপন লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত বলে দাবি করেন।

০%
০%
০%
০%