ঢাকা সিলেট মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্পের হবিগঞ্জ অংশে পাঁচ বছরে অগ্রগতি মাত্র এক তৃতীয়াংশ

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণের অতিগুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের হবিগঞ্জ অংশ চরম দীর্ঘসূত্রতা ও মন্থরগতির বেড়াজালে আটকে গেছে। প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এই অংশে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার এই জাতীয় প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত হলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তারা এখনো আশাবাদী যে, সরকারের নির্ধারিত সময়সীমা এবং ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই আধুনিক এই মহাসড়কে যান চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং উপআঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার করার লক্ষে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে সংযোগকারী করিডোর হিসেবে এই মহাসড়ককে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, যথাযথভাবে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই এবং ঠিকাদার চূড়ান্ত না করেই ২০২১ সালে তাড়াহুড়ো করে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, যার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন।

প্রকল্পের ধীরগতির কারণে প্রতিদিন এই রুটে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ ও পরিবহন শ্রমিক চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। হবিগঞ্জ-ঢাকা রুটের বাসচালক সিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের কাজ চলছে কিন্তু এর কোনো দৃশ্যমান ইতিবাচক সমাপ্তি দেখা যাচ্ছে না। কাজের এই শ্লথগতির কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এবং ঘটছে দুর্ঘটনা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।

মাধবপুর উপজেলার আল-আমিন হোটেল থেকে বাহুবল উপজেলার ডুবাঐ বাজার পর্যন্ত ৩৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি অত্যন্ত হতাশাজনক বলে স্বীকার করেছেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক-৪ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জোহা। তিনি জানান, ধীরগতির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। এরপরও যদি কাজের গতি না বাড়ে, তবে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

অন্যদিকে, উপপ্রকল্প পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন, মাধবপুর থেকে জগদীশপুর পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়কে ২৬টি কালভার্ড ও সাতটি সেতু নির্মাণের কাজ চলছে এবং এই অংশে অগ্রগতি প্রায় ৩৮ দশমিক ৬ ভাগ। তবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা এবং সড়কের মাঝখান থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সময়মতো অপসারণ না করতে পারায় নির্মাণকাজে এই মন্থরতা দেখা দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বিভিন্ন দাপ্তরিক ও কাঠামোগত জটিলতার কারণে শুরুতে কাজের গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও বর্তমানে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে। কালভার্ট, সেতু ও ওভারপাস নির্মাণের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে দৃশ্যমান কিছু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. এস এম সরফরাজ আশ্বস্ত করে জানান, হবিগঞ্জ অংশের জমি অধিগ্রহণের কাজ বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই জটিলতা সম্পূর্ণ কাটামুক্ত হলেই মহাসড়কের বাকি নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

০%
০%
০%
০%