ঢাকা জেলার বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশে ফেসবুকের বিশাল ব্যবহারকারী ভিত্তি এবং উদীয়মান অনলাইন ব্যবসার অপার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে রাজধানী ঢাকায় নিজস্ব কার্যালয় স্থাপনের জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একই সঙ্গে দেশের ই-কমার্স খাতের সম্প্রসারণ, অনলাইন ব্যবসার প্রসার এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চায় এই মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও অর্জন তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জানান, মেটার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ব্যস্ত সময়সূচির কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারেননি। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় ঢাকায় মেটার কার্যালয় খোলার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পায় উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশে অফিস চালুর বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এমনকি ঢাকাকে মেটার আঞ্চলিক কার্যক্রমের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের ডিজিটাল পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত দেশে ফেসবুকের আনুমানিক ব্যবহারকারী ছিল ৭ কোটি ৫১ লাখের বেশি। তবে মেটার বিজ্ঞাপনভিত্তিক এই পরিসংখ্যানকে প্রকৃত সক্রিয় ব্যবহারকারীর পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা হিসেবে না দেখার পরামর্শও দেওয়া হয়।
ডিজিটাল খাতের নীতিগত বিষয়গুলোর পাশাপাশি বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া ই-কমার্স, অনলাইন বাণিজ্য এবং সামগ্রিক ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণে মেটার সার্বিক সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে উভয় পক্ষ খোলামেলা মতবিনিময় করে। দেশের বাজারে কার্যক্রম আরও সুদৃঢ় করার অংশ হিসেবে মেটা ইতিমধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধাজনক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা বিকাশের মতো জনপ্রিয় স্থানীয় পেমেন্ট মাধ্যমের সাহায্যে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন। এর ফলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা আরও সহজে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন।
উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি মেটা এবং লাইটক্যাসল পার্টনার্স যৌথভাবে ঢাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি বিষয়ক একটি বিশেষ আয়োজনের সূচনা করেছে। এর মাধ্যমে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ডিজিটাল বিপণন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবসায়িক সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর বাস্তব প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মেটার ‘স্মল বিজনেস গ্রোথ একাডেমি’র আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশে এক হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী এবং দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া অনলাইন ব্যবসার বাজারকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে মেটার সঙ্গে সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডিজিটাল বাণিজ্য প্রসার, উদ্যোক্তা তৈরি, অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করবে।