নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পেশাদার কূটনীতিক আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সম্মতিপত্র বা অ্যাগ্রিমেন্ট এসে পৌঁছায়, যার ফলে এই নিয়োগ নিয়ে চলা যাবতীয় জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন ও তা আরও গতিশীল করার অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি এই অনুমোদন প্রদান করেছে। এর আগে ভারত থেকে সাবেক মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দিনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় নতুন দূত হিসেবে পাঠানোর পর, বাংলাদেশও তাদের অন্যতম জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ এই কূটনীতিককে ভারতের রাজধানীতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
আসাদ আলম সিয়াম দিল্লিতে বর্তমান হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। এর পূর্বে রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনিভায় জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ১৯৯৫ ব্যাচের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা আসাদ আলম সিয়াম গত বছরের জুনে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি অস্ট্রিয়া ও ফিলিপাইনে রাষ্ট্রদূত এবং মিলানে কনসাল জেনারেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের পক্ষ থেকে পারস্পরিক সম্পর্ক মেরামতের জোরদার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।