নিউইয়র্ক থেকে: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ছয়টা বিশ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে তাঁকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সফর উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীসহ নিউইয়র্কস্থ বিএনপি ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা হোটেলের সামনে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন চারপাশ এবং প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে তাঁর সহধর্মিণী ছাড়াও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। যুক্তরাষ্ট্র ও প্রবাসী বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল প্রটোকলভিত্তিক কোনো সমাবেশ নয়, বরং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারক ও মার্কিন মহলের সামনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরার এক উন্মুক্ত মঞ্চ।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এর আগে তিনি জাতিসংঘ সদর দফতরে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতরাশ এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
নিউইয়র্ক অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করবেন। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ার ফিলস-আইমে এবং ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈসন্ধিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সাথে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এছাড়া তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান, রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট, জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর বিষয়ক আলোচনা, এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও মাতৃ-নবজাতকের মৃত্যু রোধ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন।
সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ’র সাথে বৈঠক করবেন। এছাড়াও ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধি, বোয়িং গ্লোবাল-এর প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসন, এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সাথে তাঁর বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজের কর্মসূচি রয়েছে। সমস্ত কূটনৈতিক দায়িত্ব ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের সাথে মতবিনিময় শেষে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাবা-মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ও অনন্য নজির স্থাপন করেছে।