ওয়াজের ময়দানে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে জবরদস্তি পরিহার করে টাকার চেয়ে সম্মান ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসাইন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, কে বেশি বা কম পারিশ্রমিক দিল—সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে আলেম সমাজের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রকৃত দ্বীনি দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া।
ফেনীতে ‘আকাবিরের চিন্তা, দাওয়াতের মানহাজ ও তারুণ্যের প্রস্তুতি’ শীর্ষক এক বিশেষ জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও তরুণ মাদরাসা শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
দ্বীনি প্রচারকদের আপসহীন মনোভাব বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে সাবেক এই ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, হক কথা প্রচার করতে গিয়ে যদি কারাবাসের মতো কঠিন পরিস্থিতিও আসে, তবুও তা হাসিমুখে বরণ করে নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দাওয়াতের পবিত্র ময়দান থেকে পিছু হটার সুযোগ নেই। সত্যের পথে অবিচল থেকে দাইদের দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।
ওয়াজ মাহফিলের বিষয়বস্তু নির্ধারণে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ড. খালিদ হোসাইন বলেন, বর্তমান সময়ে ওয়াজের ময়দানে অলৌকিক কাহিনী বা আজগুবি গল্পের চর্চা কমিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনীয় মাসয়ালা তুলে ধরতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন সহজে আমল করতে পারে, এমন সহজবোধ্য বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। পাশাপাশি মনগড়া কথা না বলে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর জোরালো রেফারেন্স উপস্থাপনের তাগিদ দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আলেমদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়াজের মঞ্চে অহেতুক গল্প বা কোনো വ്യക്തിকে লক্ষ্য করে সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বরং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সঠিক আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মাওলানা ইউসুফ কাসেমীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আল মোবারক, বাংলাদেশ ইসলামি দাওয়াহ সেন্টারের পরিচালক মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী এবং মুফতি ওমর ফারুক ইব্রাহিমীসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম।