নাটোরের লালপুরে সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এবং স্টক রেজিস্টারের সঙ্গে বাস্তব মজুদের বড় ধরনের গরমিল পাওয়ায় ‘সাইফুল ট্রেডার্স’ নামের একটি সার ডিলার প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার বিকেলে উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের চাঁদপুর বাজারে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এই দণ্ড দেওয়া হয়।
লালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবির হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সরেজমিনে মজুদের সঙ্গে রেজিস্টার খাতার তথ্যের চরম অসংগতি পাওয়ায় এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ সময় অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় এবং ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি চৌকস দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরালের পর ডিলার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সার পাচারের বিষয়টি প্রকাশ পায়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাইফুল ট্রেডার্সের বরাদ্দকৃত সার একটি ভ্যানে বোঝাই করে পার্শ্ববর্তী বড়াইগ্রাম উপজেলার কয়েন এলাকার ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’ নামের অন্য একটি দোকানে পাচার করা হচ্ছে। পরে ভ্যানচালক জসিম উদ্দিনও গণমাধ্যম ও স্থানীয়দের সামনে স্বীকার করেন যে, ডিলার সাইফুল ইসলাম নিজেই তাকে ওই সার বিক্রির উদ্দেশ্যে বড়াইগ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।
সার পাচারের এই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই কদিমচিলান ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সার ক্রয়ের জন্য ডিলারের দোকানে গেলে তাকে প্রায়ই কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ গোপনে সেই সার বেশি দামে অন্য উপজেলায় পাচার করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুস সামাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা ফসলের ক্ষেতে সময়মতো সার না পেলেও চোখের সামনে সরকারি সার কালোবাজারে পাচার হতে দেখেছেন।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও সার বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এমন ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবির হোসেন। এদিকে, কৃষকরা এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করার পাশাপাশি অভিযুক্ত সাইফুল ট্রেডার্সের ডিলারশিপ দ্রুত স্থায়ীভাবে বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।