সব আন্তঃসীমান্ত নদী চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত করার জোরালো দাবি রংপুরে

দেশের সকল আন্তঃসীমান্ত নদী যথাযথভাবে চিহ্নিতকরণ এবং সেগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জোর দাবি জানিয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রিভারাইন পিপল ক্লাব। বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও মানববন্ধনে এই দাবি উত্থাপন করেন নদী গবেষক ও শিক্ষার্থীরা। ‘বন, নদী, পানি নেই তো জীবন নেই’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশের নদীগুলোর প্রকৃত ভৌগোলিক চিত্র তুলে ধরে সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই আলোচনা ও মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে রিভারাইন পিপল ক্লাবের উপদেষ্টা ও এআইএস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উমর ফারুক, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম পলাশ, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী ফজলুল হক, নদীকর্মী ও সমাজ উন্নয়ন সংগঠক মশিউর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) রাজশাহী অঞ্চলের সমন্বয়ক তন্ময় স্যানাল এবং লালমনিরহাটের রিভারাইন পিপলের জেলা সমন্বয়ক মোশাররফ হোসেনসহ বিশিষ্টজনেরা বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, যৌথ নদী কমিশনের তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা ৫৭টি, যার মধ্যে ভারতের সঙ্গে ৫৪টি এবং বাকি ৩টি মিয়ানমারের সঙ্গে রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, দুই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রকৃত নদীর সংখ্যা সরকারি তালিকার চেয়ে অনেক বেশি। প্রচলিত ৫৪টি নদীর তালিকার মধ্যে রংপুর বিভাগ দিয়ে ১৮টি নদী প্রবাহিত হওয়ার কথা বলা হলেও, সেখানে সরেজমিন অনুসন্ধানে ৬৩টি আন্তঃসীমান্ত নদীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক নদী ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ভিন্ন নামে প্রবাহিত হলেও মূল নামগুলো প্রচলিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নেই। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন কিংবা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তালিকাবহির্ভূত এমন বহু নদী কেবল রংপুর অঞ্চলেই রয়েছে, যা নদীর সঠিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় একটি অন্তরায়। তালিকার বাইরে থাকা এসব নদীকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যতে এই জলপ্রবাহগুলো স্থায়ীভাবে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের হাতে ড. তুহিন ওয়াদুদ রচিত ‘নদী সুরক্ষায় দায়িত্বশীলতা’ শীর্ষক গ্রন্থটি তুলে দেওয়া হয়। এর আগে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত নদীর বাস্তব চিত্র নিয়ে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয় এবং সেখানে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে দেশের সব অদৃশ্য ও অবহেলিত নদীকে তালিকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

০%
০%
০%
০%