মাত্র দুইশ টাকার নোট ভাঙতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজশাহী নগরীর ডিঙাডোবা এলাকায় বারিউল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যবসায়ಿಯನ್ನು নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। তুচ্ছ এই ঘটনার জেরে গভীর রাতে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এবং বারিউল ইসলামের মুদি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় তীব্র শোক ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় ডিঙাডোবা এলাকার ‘তানভীর ভ্যারাইটি স্টোর’-এ তিনজন ব্যক্তি একটি দুইশ টাকার নোট ভাঙতি করাতে আসেন। দোকানদার তানভীর টাকা ভেঙে দুটি একশ টাকার নোট দিলে তারা আরও ছোট নোট দাবি করেন। কিন্তু দোকানে ভাংতি টাকা না থাকায় তা দিতে অস্বীকৃতি জানান দোকানদার। এ সময় দোকান মালিক বারিউল ইসলাম ঘুম থেকে উঠে এগিয়ে এলে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা তাঁর কলার ধরে মারধর শুরু করে। স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে সে যাত্রায় হামলাকারীরা পিছু হটলেও যাওয়ার সময় দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যায়।
পূর্বপরিকল্পিত সেই হুমকি অনুযায়ী শনিবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল রামদা, হাসুয়া ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুনরায় ওই এলাকায় চড়াও হয়। হামলাকারীরা দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও ইটপাটকেল ছোঁড়ার পাশাপাশি প্রায় দেড় লাখ টাকার সিগারেট লুট করে। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে পালানোর সময় বারিউল ইসলামকে ধাওয়া করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে রোববার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মহিষবাথান কবরস্থানে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় বারিউল ইসলামের। ঘটনার পর থেকেই শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। নিহতের অনার্সপড়ুয়া একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ তানভীর হোসেন ও শোকার্ত স্বজনদের আহাজারিতে ডিঙাডোবা এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহসহ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।