নারায়ণগঞ্জে স্বর্ণের দোকানে দিনদুপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় ৫ জন গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দিনদুপুরে একটি স্বর্ণের দোকানে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রোববার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বন্দরের ঢাকেশ্বরী সোনাচড়া এলাকায় একটি স্বর্ণের দোকানে অতর্কিত হানা দেয় ৭ থেকে ৮ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল। দোকানে প্রবেশ করেই তারা অস্ত্রের মুখে উপস্থিত লোকজনকে জিম্মি করে ভীতি সৃষ্টি করে। এরপর মুহূর্তের মধ্যে শোকেস ভেঙে স্বর্ণালংকার, রূপার গহনা, নগদ টাকা ও বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।

গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ডাকাতির ঘটনাটি ওই দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। শনি ও রোববার চলা এসব অভিযানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আনোয়ার হোসেন (৩২), মিজান (২৬), অনিক (২২), সুমন বেপারী (৩৮) এবং রাজু আহমেদ (২৪)। পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, একই সময়ে পৃথক আরেকটি সফল অভিযানে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মতিউর রহমান জনি ওরফে ব্ল্যাক জনি (৩৯) এবং তার সহযোগী রিফাত হাসানকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, শনিবার রাতে বন্দরের ঘাড়মোড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি হাঁসের খামারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় খামারের মাটির নিচে অভিনব কায়দায় প্লাস্টিকের বস্তায় লুকিয়ে রাখা ১৬টি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। জনির বিরুদ্ধে অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা এই সফল অভিযানের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

০%
০%
০%
০%