বরগুনার বেতাগী উপজেলায় স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করে তিনটি দাঁত ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল অভিযুক্ত ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসআরবি-৮ পটুয়াখালী ক্যাম্পের সদস্যদের যৌথ সহযোগিতায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বরগুনা সদর উপজেলার পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কিছুদিন আগে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে গেলে বখাটে ফয়সাল সেখানে উঁকি দেয়। বিষয়টি টের পেয়ে শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করলে ফয়সাল দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুটি বিষয়টি তার স্বজনদের জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ফয়সাল এবং তাকে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করে।
এরই জেরে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে একা পেয়ে ওই ছাত্রীর ওপর চড়াও হয় ফয়সাল। তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়, যার তীব্রতায় শিশুটির মুখের সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে পড়ে যায় এবং আরও দুটি দাঁত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যরা তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর দিন রাতেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে ফয়সালকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করে বেতাগী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ফয়সালের মা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি ফয়সাল আত্মগোপনে চলে যায়। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়।
বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন জানান, এসআরবি সদস্যদের কার্যকর সহযোগিতায় বেতাগী থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর এই মামলার প্রধান আসামিকে জালে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে মামলার অন্যান্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ফয়সালকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আদালতে সোপর্দ করা হবে। এদিকে, এই নির্মম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।