শিবগঞ্জে রাতের আঁধারে কলাবাগানের আড়াই হাজার থোড় কেটে নষ্ট করার অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে রাতের আঁধারে কে বা কারা এক প্রান্তিক কৃষকের কলাবাগানের প্রায় আড়াই হাজার অপরিপক্ব কলার থোড় কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। এই নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞে প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক, যার সর্বস্ব বিনিয়োগ ও ব্যাংক-এনজিওর ঋণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর হঠাৎপাড়া এলাকায় গত শনিবার দিবাগত রাতের কোনো একসময়ে এই নাশকতার ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার সকালে স্থানীয়রা জমিতে গিয়ে কলার থোড়গুলো মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন এবং দ্রুত বাগানের মালিককে খবর দেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শহিদুল ইসলাম পার্শ্ববর্তী শ্যামপুর ইউনিয়নের শরৎনগর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে লক্ষ্মীপুর হঠাৎপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিমসহ কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকায় জমি লিজ নিয়ে এই কলাবাগানটি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। বাগানটি সৃজন করতে বিভিন্ন জায়গা থেকে চড়া সুদে ঋণ ও ধারদেনা করেছিলেন শহিদুল। তিল তিল করে গড়ে ওঠা এই বাগানের কলাগুলো যখন ধীরে ধীরে পরিপক্ব হয়ে ওঠার অপেক্ষায় ছিল, ঠিক তখনই শত্রুতাবশত রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা প্রায় দুই হাজার ৫০০টি কলার থোড় কেটে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শহিদুল ইসলাম জানান, উৎপাদিত কলা বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করার স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু এই বর্বরোচিত হামলায় তাঁর ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি এখন চরম অর্থনৈতিক সংকট ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

০%
০%
০%
০%