দখল ও চাঁদাবাজি রোধে ব্যর্থতা সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক বিপদের পূর্বলক্ষণ টিআইবির সতর্কবার্তা

দেশজুড়ে অব্যাহত দখলবাজি, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি অবিলম্বে সারা দেশে দলীয় আত্মশুদ্ধির কঠোর অভিযান চালানোর জোর দাবি জানিয়েছে।

সম্প্রতি রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নজিরবিহীন লুটপাট ও ভাঙচুর, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের মতো একের পর এক অঘটনের প্রেক্ষাপটে এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরে দুর্নীতিবিরোধী এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত অর্ধশত বছরের পুরোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখল চালানো হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বিব্রতকর দৃষ্টান্ত। একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব উপস্থিতিতে দরিদ্র মা ও শিশুদের সেবাদানকারী একটি প্রতিষ্ঠানে এমন তাণ্ডব চালানোর মাধ্যমে সমাজে কী ধরনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি জানান, গত বছরের আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে বিএনপির একটি অংশের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, কাঁচাবাজার, জলমহাল, বালুমহাল, এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ ও ময়লার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো লাভজনক খাতগুলোতে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির পাহাড়সম অভিযোগ জমা হচ্ছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে নেতাকর্মীদের মধ্যকার অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রায়শই সহিংস সংঘর্ষের রূপ নিচ্ছে, যা প্রকারান্তরে দখলবাজিকে সামাজিক স্বীকৃতি বা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করছে।

কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং স্টুডিও ভাঙচুরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে অতীতের বিভিন্ন কলঙ্কজনক অধ্যায়েরই পুনরাবৃত্তি বলে অভিহিত করে টিআইবি সতর্ক করেছে যে, এই ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড সরকারের ইতিবাচক সদিচ্ছা ও সংস্কারের প্রচেষ্টাকে দারুণভাবে ম্লান করে দিচ্ছে এবং জনমনে তীব্র নেতিবাচক বার্তা পাঠাচ্ছে।

দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কালক্ষেপণ না করে এখনই কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, সময়মতো এসব অপরাধের লাগাম টেনে ধরা না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

টিআইবি আরও অভিযোগ করেছে, বহু ক্ষেত্রে অপরাধীদের সাময়িক বহিষ্কার কিংবা সাংগঠনিক শাস্তির কথা বলা হলেও ক্ষমতার অপব্যবহার অব্যাহত থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এই দুর্বলতার সুযোগে সমাজে আবারও স্বেচ্ছাচারিতা, দলীয় প্রভাব এবং বিচারহীনতার পুরোনো সংস্কৃতি ফিরে আসার উপক্রম হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করে অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

০%
০%
০%
০%