ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, কার্ড বিতরণে অনিয়ম প্রমাণিত হলে কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না, সরাসরি আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
রোববার বিকেলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি-২০২৬’ এবং ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ-২০২৬’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুশিয়ারি দেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।
অতীতের বিভিন্ন অনিয়মের কথা স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, অতীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সময় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত করে পাকা বাড়িতে বসবাসকারী সচ্ছল ব্যক্তি বা অন্য এলাকায় চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করার নজির রয়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারীদের গাফিলতি ও সততার অভাবে সরকারের মহৎ উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এবার কাজের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাবাসীর প্রতি বিশেষ ভালোবাসার জায়গা থেকেই পরীক্ষামূলক ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রাথমিক তালিকায় এই এলাকাকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ের অনিয়মের কারণে সেই ভালোবাসার অপব্যবহার হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
তথ্য সংগ্রহকারীদের কাজের পরিধি ও অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দিয়ে তিনি আরও বলেন, এবারের কার্যক্রম শুরু করতে হবে একেবারে প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের ঝুপড়ি ঘর থেকে। পর্যায়ক্রমে হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতরা তালিকায় স্থান পাবেন। কোনো অবস্থাতেই যেন শুরুতেই পাকা বা আধাপাকা বাড়ির অধিবাসীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা না হয়। সরকারের কল্যাণমুখী এই কার্যক্রমে গরিব মানুষের অধিকার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সরকার আপনাদের শ্রমের মূল্যায়ন করে সম্মাননা প্রদান করছে। এর বাইরে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। নির্বাচনের আগেও আমি ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছিলাম। আজও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলে দিচ্ছি, এবার কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সরাসরি চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেতে হবে।