যাকাতের সঠিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় বাজেটের এক তৃতীয়াংশ জোগান দেওয়া সম্ভব

সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া গেলে জাতীয় বাজেটের প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ একাই যাকাতের মাধ্যমে সংগ্রহ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। তিনি বলেন, ইতিহাসের এক দীর্ঘ সময় জুড়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক উৎস ছিল যাকাত, অথচ বর্তমান সময়ে এ গুরুত্বপূর্ণ খাতটি থেকে রাজস্ব বা তহবিল সংগ্রহে সরকারের কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের অডিটোরিয়ামে গ্লোবাল সোসাইটি ফর ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্স (জিএসআইএফ) আয়োজিত ‘ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্সের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদেরা উপস্থিত থেকে ইসলামী অর্থব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, দেশে যদি যাকাতের একটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়, তবে এই খাত থেকে প্রায় ২ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করা অর্জন করা সম্ভব। সংগৃহীত এই বিশাল পরিমাণ অর্থ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি জোরালো মন্তব্য করেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, সাধারণ ধারণায় যাকাতকে কেবল একটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এর রয়েছে সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য। বৈজ্ঞানিক ও সঠিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ ঘটিয়ে যাকাতের এই অর্থ দিয়ে দেশের স্থায়ী দারিদ্র্য বিমোচন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা পুরোপুরি সম্ভব।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ বেকার তরুণ রয়েছে যাদের বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে—এমন তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে এই তরুণ সমাজকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আওতায় এনে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলবে।

সেমিনারে ইসলামী সোশ্যাল ফাইন্যান্স ব্যবস্থাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও জনমুখী করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন জিএসআইএফের প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ। এ সময় বক্তারা কর্জে হাসানা এবং ওয়াকফসহ ইসলামী সোশ্যাল ফাইন্যান্সের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোকেও জনকল্যাণে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. জুবায়ের মোহাম্মদ এহসানুল হক এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মাহবুবুল হকসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা। বক্তারা একবাক್ಯ স্বীকার করেন যে, এই খাতগুলোকে সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় এনে যথাযথভাবে পরিচালনা করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং কাঙ্ক্ষিত দারিদ্র্য বিমোচন অর্জন করা সময়ের দাবি মাত্র।

০%
০%
০%
০%