ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা দিলেন মির্জা ফয়সল আমীন

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন আনুষ্ঠানিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি এই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। উল্লেখ্য, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই আসনে মির্জা ফয়সল আমীন প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

এর আগে ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনও এই আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে প্রধান রাজনৈতিক শিবিরগুলোর হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচনী লড়াইয়ে নিজেদের আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নিশ্চিত করলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যেই।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমাদানের পর এখন শুরু হবে যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে নামবেন। নবগঠিত রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এত বিপুলসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়েই ভোটার ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নির্বাচন প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন পরিচালনার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভোটাররা যাতে কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়াই সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সজাগ রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর নজরদারি রাখা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা ব্যত্যয় ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

০%
০%
০%
০%