সৌদি আরবে ভালো চাকরির প্রলোভনে মানবপাচার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা, স্ত্রী গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় সৌদি আরবে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং মানবপাচারের অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণা মামলায় মোছা. আমেনা বেগম (৩০) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর কালুখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন মোছা. সেলিনা (৩৫) নামের এক ভুক্তভোগী গৃহবধূ। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে খান শাহিদুলকে (৩৫) এবং অপর আসামি তার স্ত্রী ও সদ্য গ্রেপ্তারকৃত আমেনা বেগমকে। মানবপাচার ও চোরাচালান দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এই মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর স্বামী আরাফাত শিকদার দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকায় তাকে বিদেশে পাঠিয়ে সচ্ছলতা ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন সেলিনা। একপর্যায়ে স্থানীয় দম্পতি খান শাহিদুল ও আমেনার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। শাহিদুল নিজেকে সৌদি আরবে লোক পাঠানোর একজন বিশ্বস্ত এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দেন এবং গৃহবধূর স্বামীকে সেখানে ভালো ভিসা ও আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনপ্রতি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা চুক্তির পর গত ১৫ মে বিকেলে শাহিদুলের বসতঘরে গিয়ে বাদী ও আরও দুই ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে নগদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আসামিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই অর্থের বিনিময়ে পরবর্তীতে আরাফাত শিকদার, মো. নিশাদ খান ও জাবেদ শেখ—এই তিনজন তরুণকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে পা রাখার পরই শুরু হয় আসল বিপত্তি। প্রথামাফিক কোনো কাজ না দিয়ে তাদের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে কালক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে প্রধান আসামি শাহিদুল ও তার সহযোগীরা আরাফাত শিকদারসহ অন্য যুবকদের অন্য এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের একটি অবরুদ্ধ কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো এবং ঠিকমতো খাবার না দেওয়ার হৃদয়বিদারক তথ্যও বেরিয়ে এসেছে।

ভুক্তভোগী সেলিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আসামিরা সুকৌশলে সর্বস্বান্ত করে তার স্বামীসহ তিনজনকে বিদেশে পাঠিয়ে মানবপাচারের শিকার বানিয়েছে। শুধু তারাই নন, এই প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে এলাকার আরও অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। অবিলম্বে তার স্বামীসহ বিদেশে মানবেতর জীবনযাপনকারী সব ভুক্তভোগীকে সরকারি উদ্যোগে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এই অমানবিক পাচার চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কালুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম জানান, অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এজাহারনামীয় দ্বিতীয় আসামি আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চক্রের প্রধান হোতাসহ পলাতক অন্যান্য আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

০%
০%
০%
০%