নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে মর্মান্তিক ট্রলার ডুবির ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ হেলাল উদ্দীনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের উদ্ধারকর্মীরা মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্টে চিরুনি অভিযান চালালেও তাঁর নাগাল পাননি। একই পরিবারের তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা, আর হেলালের খোঁজ পেতে নদীর বুকে চষে বেড়াচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে স্বজনদের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীর উত্তাল তরঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রলারটি ডুবে যায়। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক নারী নিহত হন এবং নিখোঁজ হন একই পরিবারের চার সদস্য। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ তল্লাশির পর ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হলেও তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে নিখোঁজদের উদ্ধারকাজে মারাত্মক বেগ পেতে হয়।
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকে বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদীর পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় হেলাল উদ্দিনের তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুরা হলো—সজিব, সামিয়া ও শিশু সামিন। তাদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। সন্তানদের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হেলাল উদ্দীনের নিখোঁজ থাকায় তাঁর স্ত্রী ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নদীর তীরবর্তী বাতাস।
নিখোঁজ হেলাল উদ্দীনকে উদ্ধারের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার জাহেদ চৌধুরী জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ ডুবুরি দল চতুর্থ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরাও মেঘনার বিভিন্ন প্রান্তে যৌথভাবে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। নদীর তলদেশের স্রোত ও ঝাপসা পানির কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হলেও হেলালের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।