বাঞ্ছায় আধিপত্যের লড়াইয়ে ভাড়াটে যুবক নিহত অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে সংঘটিত এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আধিপত্য বজায় রাখতে প্রতিপক্ষকে হটাতে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।

নিহত জুয়েল মিয়া পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার নিলখা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের সেন্টু মিয়ার পুত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোক্তার হোসেন ও মোমেনের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বর্তমানে গ্রামটিতে মোমেন গ্রুপের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। তাদেরকে হটিয়ে এলাকা নিজেদের দখলে নিতে মোক্তার গ্রুপ মরিয়া হয়ে ওঠে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পরিকল্পিতভাবে এই আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে পার্শ্ববর্তী নরসিংদীর রায়পুরা থেকে অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করে লোক নিয়ে আসে মোক্তার পক্ষ। সোমবার ভোরে মোক্তার গ্রুপের লোকজন অতর্কিতভাবে মোমেন গ্রুপের ওপর চড়াও হলে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের নিক্ষিপ্ত টেঁটার আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন মোক্তার পক্ষের ভাড়া করা কর্মী জুয়েল মিয়া। এই আকস্মিক সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি এবং তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি এবং পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন জানান, এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতেই মোক্তার গ্রুপের লোকজন মোমেন গ্রুপকে এলাকাছাড়া করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালায়। নিহত জুয়েল মিয়া মোক্তার পক্ষের হয়ে এই সংঘর্ষে অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে এমন নৃশংস সহিংসতার ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%