কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দমনে সাঁড়াশি অভিযান, নতুন করে আটক চার শতাধিক

কুমিল্লার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আরও ৪১৫ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দমন এবং উঠতি বয়সী তরুণদের বিপথগামিতা রোধে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানের তৃতীয় দফায় এ সাফল্য আসে। এর মাধ্যমে গত কয়েকদিনের টানা অভিযানে জেলাজুড়ে আটক ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ২৯৩ জনে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে কিশোর গ্যাংয়ের নিয়মিত আড্ডাস্থল, অন্ধকার অলিগলি এবং সন্দেহভাজন জনসমাগমস্থলে চিরুনি অভিযান চালান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি মাঠে থেকে এই অভিযান তদারকি করেন।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় কিশোর অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় পরিচালিত অভিযানে মোট ৮৭৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। আটককৃতদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম অপরাধে জড়িত বা প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা অন্যদের পরিবারের জিম্মায় এবং মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযানের বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া কর্মকর্তা) লুৎফর রহমান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে উঠতি বয়সী কিশোররা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, তৃতীয় দফায় আটক হওয়া ৪১৫ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার রেকর্ড বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তা বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিশোর অপরাধের বিষবৃক্ষ পুরোপুরি সমূলে উৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত জেলাজুড়ে এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

০%
০%
০%
০%