প্রিজন ভ্যান থেকে ২৫ মামলার আসামি পালানোর ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

আদালতে হাজিরা শেষে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে শৌচাগারে যাওয়ার বাহানা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ২৫ মামলার কুখ্যাত আসামি ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়নের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই নিরাপত্তা ত্রুটির নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার সকালে রাজধানীর ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজিরা দিতে নেওয়া হয়েছিল শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে। আইনি কার্যক্রম শেষে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে পুনরায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ ফিরিয়ে আনা হচ্ছিল। পথিমধ্যে প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে পিচ্চি রাজা শারীরিকভাবে অসুস্থতার কথা বলে এবং প্রাকৃতিক কাজ সারার প্রয়োজন দেখিয়ে গাড়ি থামানোর অনুরোধ জানায়। পরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা বাধ্য হয়ে তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে একটি শৌচাগারে নিয়ে যান। সেই মুহূর্তের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সুকৌশলে পালিয়ে যায় এই দুর্ধর্ষ আসামি।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি ও বিচ্যুতির প্রমাণ পাওয়ায় প্রিজন ভ্যানের চালকসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের পাঁচ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুরো ঘটনাটি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখতে পুলিশের উপ-কমিশনারের (হেডকোয়ার্টার্স) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১৯ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নেপাল থেকে বিমানযোগে তার স্ত্রী ও শ্যালককে নিয়ে দেশে ফেরার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। মূলত মোহাম্মদপুর এলাকার অন্যতম শীর্ষ মাদক সম্রাট ও অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ২৫টি গুরুতর মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এদিকে, জনবহুল এলাকায় পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে এমন একজন দুর্ধর্ষ ও একাধিক মামলার আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ নাগরিক ও সচেতন মহল অবিলম্বে এই পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%