পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত মশারি আলমারিবন্দী থাকার অভিযোগ

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত মশারি আলমারিবন্দী থাকার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তির প্রায় ২১ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রোগীদের বিছানায় মশারি টাঙানো হয়নি। অথচ ওয়ার্ডের আলমারিতে পর্যাপ্ত মশারি মজুত ছিল। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য আলমারিতে মশারি মজুত থাকলেও তা টানানো হয়নি দীর্ঘ ২১ ঘণ্টায়ও—এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পাওয়ার পরই কেবল তোড়জোড় শুরু করে তড়িঘড়ি করে মশারি বের করে দেওয়া হয় রোগীদের বিছানায়।

সোমবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, হাসপাতালের ওই বিশেষ ওয়ার্ডে তখন পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অথচ তাদের কারও বিছানাতেই মশারির দেখা মেলেনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই চরম দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতায় ডেঙ্গুর জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে সার্বক্ষণিক মশারির ভেতরে রাখা বাধ্যতামূলক, যাতে সেই রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে সুস্থ মানুষের দেহে ভাইরাস ছড়াতে না পারে।

ভুক্তভোগী রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে ভর্তির দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নার্স বা ওয়ার্ডের দায়িত্বরত স্টাফরা মশারির বিষয়টি ন্যূনতম গুরুত্ব দেননি। পৌর শহরের রাজনগর এলাকার বাসিন্দা জুবায়ের হাসান ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত রোববার বিকেলে এই হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু সোমবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২১ ঘণ্টা কেটে গেলেও তার বিছানায় কোনো মশারি টাঙানো হয়নি। জুবায়ের আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, ভর্তির পর থেকেই তিনি মশারির বাইরে অরক্ষিত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

একই চিত্র পাওয়া গেল বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী এলাকা থেকে আসা ১৯ বছর বয়সী তরুণ লিখন ইসলামের ক্ষেত্রেও। তেজগাঁওয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ফেরার পর রোববার তাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে মশারি না পাওয়ার বিষয়ে লিখন বলেন, গতকাল ভর্তি হওয়ার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত তাকে কোনো মশারি দেওয়া হয়নি; বরং গণমাধ্যমকর্মীরা ওয়ার্ডে প্রবেশ করার পরই তড়িঘড়ি করে মশারি এনে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্সদের কাছে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তারা গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং কোনো বক্তব্য দেননি।

তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নার্সিং সুপারভাইজার রিনা বেগম দাবি করেন, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে পর্যাপ্তসংখ্যক মশারি সরবরাহ করা রয়েছে। রোগীদের কেন মশারি দেওয়া হলো না—এমন প্রশ্ন করা হলে দায়িত্বে থাকা নার্সরা তাকে জানিয়েছেন যে এটি তাদের একটি 'ভুল' ছিল এবং ভবিষ্যতে এমনটি আর ঘটবে না। বিষয়টি দ্রুত হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আফরোজা বেগম রিনা জানান, ডেঙ্গু ওয়ার্ডের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মশারি বরাদ্দ রয়েছে। রোগীদের বিছানায় কেন মশারি টানানো হলো না, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবিলম্বে এই ধরণের অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

০%
০%
০%
০%