দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে নবম পে-স্কেলের আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা চূড়ান্তভাবে কার্যকরে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো এবং পরবর্তীতে অর্থ বিভাগের চূড়ান্ত সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলের পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করবে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বর্তমানে তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। এটি যেহেতু সম্পূর্ণভাবে আরেকটি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়, তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নবম জাতীয় পে-স্কেলে বেসরকারি শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হলে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাতে হবে এবং সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতিপত্র দিলে তবেই কেবল পৃথক গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষকদের জীবনমান উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের কারণে এই প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হওয়া বেসরকারি শিক্ষক সমাজের প্রত্যাশা, খুব দ্রুত সব জটিলতা কাটিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সম্মতি এবং প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত পে-স্কেল কার্যকর করা হবে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।