নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানে প্রায় আটশ’ আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। একই সঙ্গে অবৈধ উপায়ে গ্যাস ব্যবহারের দায়ে একটি বেকারিকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের জোনাল বিক্রয় অফিস (বন্দর) এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের চিরাইপাড়া এলাকায় দিনভর চলা এই অভিযানে প্রায় তিনশ’ ডাবল বার্নারের অবৈধ আবাসিক সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। এ সময় গ্যাস চুরির কাজে ব্যবহৃত প্রায় সাড়ে তিনশ’ ফুট এমএস পাইপ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাল্ব অপসারণ করা হয়।
এছাড়া একই এলাকার চিরাইপাড়া জাঙ্গালে অবস্থিত ‘ঢাকা সিয়াম বেকারি’তে অবৈধভাবে জ্বালানি ব্যবহারের সত্যতা মেলে। অভিযানে দুটি ওভেন ও দুটি ডাবল বার্নার দিয়ে বেকারি চালানোর অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে সেখান থেকে ত্রিশ ফুট এমএস পাইপ ও একটি বুস্টার জব্দ করা হয়।
অভিযানের পরিধি বাড়িয়ে পরবর্তীতে কেওডালা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে আরও পাঁচশ’ অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ওই এলাকা থেকে তিন ইঞ্চি ব্যাসের আরও সত্তর ফুট এমএস পাইপ জব্দ করা হয়।
তিতাস কর্মকর্তারা জানান, মাটির প্রায় ১৫ ফুট গভীরে মূল চার ইঞ্চি গ্যাস লাইনের সঙ্গে অত্যন্ত সুকৌশলে স্থাপন করা অবৈধ বিতরণ লাইনের সংযোগস্থল খুঁজে বের করে তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ গ্যাস সরবরাহে ব্যবহৃত প্রায় দুইশ’ ফুট হোস পাইপ কেটে অকেজো করে দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে তিতাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, একশ্রেণির অসাধু চক্রের কারণে গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক সিস্টেম লস তৈরি হচ্ছিল, যা জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গ্যাস খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সিস্টেম লস শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।