মিঠামইনে সরকারি সার পাচারের সময় ১১১ বস্তাসহ আটক ২

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভর্তুকি মূল্যের ইউরিয়া সার অবৈধভাবে পাচারের সময় ১১১ বস্তা সারসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে সারবোঝাই দুটি ট্রলি জব্দ করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গাফফারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়রা সারবোঝাই ট্রলিগুলো আটক করে কৃষি বিভাগ ও পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে শাহিন মিয়া ও জহির মিয়াকে আটক করা হয়। জব্দকৃত সারের বস্তা ও পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ট্রলি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটককৃত দুজনসহ অনুমোদিত সার ডিলার মুস্তাফিজুল ইসলাম রতন এবং লিটন নামে আরও একজনের বিরুদ্ধে মিঠামইন থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে থানা পুলিশ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অবায়দুল ইসলাম খান অপু জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ সার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের পূর্বানুমতি বা অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই সারগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কৃষকের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে সার নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি বা পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে, কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে সার নিয়ে কারসাজির ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, বোরো ও আমন মৌসুমে সারের সংকট সৃষ্টি করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই অপতৎপরতা চালাচ্ছে। স্থানীয়রা ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বর্তমান সরকার তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে যে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকির দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

০%
০%
০%
০%