মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দমনে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো হবে না উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দ্ব্যর্থহীন নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় বিবেচনার অবকাশ নেই; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে একজন অপরাধী। একই সঙ্গে সমাজ থেকে কিশোর অপরাধের মূলোৎপাটনে সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোরহস্তে আইন প্রয়োগের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত আগস্ট ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব দিকনির্দেশনা প্রদান করেন আইজিপি। সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, দস্যুতা, অপহরণ এবং পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও মামলার তদন্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া মুলতবি মামলা নিষ্পত্তি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং অপরাধীদের সাজার হার বৃদ্ধির বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের পূর্বঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কেবল পুলিশি অভিযান নয়, বরং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যকর সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও অংশীদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর পরিবেশে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রতিটি পুলিশ ইউনিটকে নিজস্ব সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য গুজব ও অপপ্রচার রোধে সাইবার মনিটরিং জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান। তিনি কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পৃষ্ঠপোষকদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। এ ছাড়াও দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপাররা যুক্ত ছিলেন। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।