কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার ও গবেষণায় জোর দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জনকল্যাণে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সুচিন্তিত ব্যবহারের পাশাপাশি ন্যানোপ্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবন বহুগুণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছ ব্যবহার মানবসভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে উল্লেখ করে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জনকল্যাণকে সর্বাগ্রে রেখে এই প্রযুক্তির পরিমিত, নৈতিক ও দায়িত্বশীল প্রয়োগ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

বৈঠকে কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণার ক্ষেত্র এবং সামগ্রিক একাডেমিক অগ্রগতির নানা দিক রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। এ সময় শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ কেবল রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি, জাতীয় পর্যায়ের বহুমুখী গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে বলে তিনি তাগিদ দেন।

সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে সবিনয় আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য। রাষ্ট্রপতি সানন্দে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সংশ্লিষ্ট সচিব ও প্রেস সচিবসহ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন অধ্যাপক উপস্থিত ছিলেন।

০%
০%
০%
০%