ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় স্বামীকে জোরপূর্বক মদ পান করিয়ে অচেতন করার পর তার স্ত্রীকে একা পেয়ে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান (৩৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের কড়াইতলী গ্রামে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হালুয়াঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ওই নারীর সঙ্গে বিয়ে হয় তার স্বামীর। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দম্পতির নিজস্ব কোনো জমি বা বসতভিটা না থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়ির বারান্দার একটি ছোট কক্ষে বসবাস করে আসছেন। ভুক্তভোগীর স্বামী স্থানীয়ভাবে মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগের বিবরণে প্রকাশ, ঘটনার দিন অভিযুক্ত শাহজাহান ও ভুক্তভোগীর স্বামী স্থানীয় একটি গারো বাড়িতে গিয়ে একত্রে মদ্যপান করেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে তারা একসঙ্গে ওই নারীর বসবাসের স্থানে ফিরে আসেন। পূর্বপরিকল্পিতভাবে বা কোনো সুযোগ বুঝে একপর্যায়ে স্বামী সেখান থেকে দূরে চলে গেলে শাহজাহান ওই নারীকে একা পেয়ে তার কক্ষে প্রবেশ করেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী নারীর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে লম্পট শাহজাহান দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হালুয়াঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত শাহজাহানকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত শাহজাহান এবং ভুক্তভোগীর স্বামী দুজনেই মাদকাসক্ত এবং তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। তারা নিয়মিত একসঙ্গে মদ্যপান করতেন। এই সামাজিক ও পারিবারিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই শাহজাহান এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে। এদিকে এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অভিযুক্ত শাহজাহানকে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।