প্রান্তিক খামারিদের স্বাবলম্বী করতে প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের ওপর জোর দিলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

বিএনপি একটি জনবান্ধব রাজনৈতিক দল এবং এই দল যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, তখনই দেশের সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে থাকে। জনগণকে ভালো রাখা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় আয়োজিত বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এসব কথা বলেন।

মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের খামারিদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই মানিকগঞ্জ থেকেই খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, যা আজও প্রান্তিক খামারিদের সমৃদ্ধির পথ দেখাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছেন। তার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করাই সরকারের লক্ষ্য। আজ বিতরণ করা বকনা বাছুরগুলো সঠিকভাবে লালন-পালন করলে খামারিরা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার দেশে খুন-গুমের রাজত্ব কায়েম করেছিল, এমনকি শিশুরাও তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে সেই জালেম সরকারকে বিতাড়িত করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা অতীতে অপকর্ম করেছে, তাদের বিচার এ দেশের মানুষ দেখতে চায়। হুমকি-ধমকি দিয়ে এ দেশের জনগণকে আর দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে বিএনপি সবসময় রাজপথে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই যেন দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ২৫ জন সুফলভোগী খামারির হাতে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য তুলে দেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

০%
০%
০%
০%