প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গোলাম কিবরিয়া লালন নামের এক স্কুলশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এলাকা থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। আটক গোলাম কিবরিয়া লালন প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন। ওই সময় তিনি সম্প্রতি জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ তুলে বাংলা উচ্চারণ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষক মহোদয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অবমাননাকর কথা বলেন, যা মুহূর্তেই শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দেয়। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরদিন বুধবার সকালে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকলে খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল জানান, বিষয়টি তিনি মঙ্গলবার রাতেই জানতে পেরেছিলেন। বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কটূক্তির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে শিক্ষক লালন দাবি করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থানের কারণে তাঁর বাংলা ভাষার উচ্চারণে কিছুটা আড়ষ্টতা থাকতে পারে—এমন কথা তিনি ক্লাসে বলেছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষককে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। সে সময় সৃষ্ট জনরোষ থেকে তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর আইনি শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।