ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির দুজন প্রার্থীসহ মোট ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। এর ফলে আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ উন্মুক্ত হলো।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ায় এই আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা, রুহিয়া ও ভূল্লী নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এখানকার মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী গত ২৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত মোট ছয়জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা দাখিল করেছিলেন।
যাচাই-বাছাইয়ে বৈধতা পাওয়া প্রার্থীরা হলেন—জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমীন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। বিএনপির দুজন প্রার্থীরই মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় দলীয় প্রতীক 'ধানের শীষ' নিয়ে শেষ পর্যন্ত কে লড়বেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর আগে প্রার্থীরা জানিয়েছিলেন, দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকেই তারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের পক্ষ থেকেই আসবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর এখন প্রার্থীদের প্রার্থিতা নিয়ে আপিলের সুযোগ রয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৭ অক্টোবর। এরপর আগামী ৮ অক্টোবর বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে ছয়জন প্রার্থীর কাগজপত্রে কোনো ত্রুটি না পাওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী পরবর্তী সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।