নীলফামারীর জলঢাকায় জমি এবং চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মকবুল হোসেন হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি মো. আনারুল ইসলামকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত মঙ্গলবার ভোরে ডিমলা উপজেলার জিহাদ বাজার এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
এসআরবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আনারুল ইসলাম জলঢাকা উপজেলার পূর্ব বালাগ্রাম আদর্শপাড়া গ্রামের মৃত আব্বাছ আলীর ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পূর্বশত্রুতা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের আকস্মিক হামলায় গুরুতর আহত হন মকবুল হোসেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘ নয় দিন লড়াইয়ের পর ২১ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের ভাই মো. মহির উদ্দিন বাদী হয়ে জলঢাকা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় মো. আনারুল ইসলামকে এজাহারনামীয় প্রধান আসামিদের একজন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলার পর থেকেই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে পলাতক ছিলেন এই আসামি। অবশেষে এসআরবির একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে জালে বন্দি করে।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রধান আসামিদের একজন গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রার্থী ছিলেন। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।