ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে সাভারের উলাইল ও কর্ণপাড়া এলাকায় দুটি বেকারিকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাদ্যপণ্যের মোড়কে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও দাপ্তরিক কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় এই দণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে সাভারের উলাইল এলাকার ‘ভরসা বেকার্স’ নামক প্রতিষ্ঠানে হানা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বেকারিতে উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রীর মোড়কে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উপাদানের সঠিক তারিখের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে, বিস্কুট তৈরিতে অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা হলেও তা পণ্যের মোড়কে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া অত্যন্ত নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে, অর্থাৎ গ্লাভস, মাস্ক ও ক্যাপ ছাড়াই খাদ্য প্রস্তুত করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
একই দিনে কর্ণপাড়া এলাকার অপর প্রতিষ্ঠান ‘বেকো লাইভ বেকারি’তে পরিচালিত অভিযানেও ব্যাপক অনিয়মের সত্যতা মেলে। ওই বেকারির পরিবেশ ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর; ফ্রিজে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল এবং ব্যবহার করা হচ্ছিল লেবেলহীন উপাদান। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদসহ কোনো ধরনের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। এসব অপরাধে বেকারিটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নির্ধারিত জরিমানার পুরো ৩ লাখ টাকা আদায় করা হয়। জনস্বার্থে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ঢাকা জেলার নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম এবং সাভার উপজেলার নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।