ফেনীর সোনাগাজীতে কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধের বিস্তার রোধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৩১ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌর শহরের কলেজ রোড, হাওয়াই রোড, তাকিয়া রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। এরই প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সোনাগাজী মডেল থানার একটি বিশেষ দল এসব এলাকায় অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ঘোরাফেরা ও বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত অবস্থায় তাদের আটক করা হয়।
থানায় এনে আটকদের প্রাথমিক পরিচয় ও অপরাধের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তাদের অভিভাবক ডেকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সৈয়দ আলম ভূঁঞা। তিনি জানান, কিশোর সমাজকে রক্ষা করতে সচেতনতা তৈরির এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রতিও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যেন সন্ধ্যার পর তারা পড়ার টেবিল ছেড়ে অযথা বাইরে আড্ডায় না থাকে। সন্ধ্যার পর যাদের বাইরে পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিলে তাতে রাজনৈতিক কোনো বাধা থাকবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
এদিকে কলেজ রোড এলাকা থেকে আটকের ঘটনায় ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সোহাগ নূর। তাঁর দাবি, ফেনীতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বুধবারের স্বাগত মিছিলের প্রস্তুতি নিতে কয়েকজন কর্মী কলেজ রোড এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশ সেখান থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের আটক করেছে। তবে অন্যান্য স্থান থেকে যাদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিশোর অপরাধের নেপথ্যে যারা মদদ জোগায়, তাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
অভিযানের বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসিম জানান, কিশোর অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত আড্ডাস্থল হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে আটকদের মধ্যে ২৭ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের তদবির বা সুপারিশ বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে সচেতনতামূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।