নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষ ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামিরা জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক তা নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে হাইকোর্ট থেকে পাওয়া তাদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। আটককৃতদের মধ্যে পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির জয়নাল আবেদীনও রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২০ মে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছিল। ওইদিন ইজারার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
এই ঘটনার জের ধরে ২৫ মে আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি ওমর শরীফ বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীনসহ মোট ৩৩ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে মুক্ত ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে বুধবার তারা নেত্রকোণার সংশ্লিষ্ট আদালতে পুনরায় জামিনের আবেদন জানান। তবে শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।