সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে

সিলেটের দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ও জলাবদ্ধতা সংকট চিরতরে নিরসনে একটি সুদূরপ্রসারী ও বড় ধরনের মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেট সদর উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের (১ম পর্যায়) আওতায় কানিশাইলে সুরমা নদীর ডানতীরের নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

সুরমা নদীর আগ্রাসী ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যায়ক্রমে তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এর অংশ হিসেবে মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেহন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, টোকের বাজারে ৫০০ মিটার এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া নদী খনন, রিজিং এবং সারি ও আরশারিক নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজও পর্যায়ক্রমে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

উন্নয়নকাজের গুণগত মান শতভাগ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নির্ধারিত কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ সময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এবং এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি করে কার্যকর তদারকি কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

সিলেটের ভৌগোলিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর উভয় তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে দীর্ঘ বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন প্রলয়ংকরী বন্যা থেকে জনপদ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে নগরবাসীর নৈমিত্তিক হাঁটার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক এক নতুন পর্যটন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে।

সিলেটের সামগ্রিক উন্নয়ন কোনো একক প্রচেষ্টার ফল নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার, সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। এ সময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনসাধারণ ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

০%
০%
০%
০%