৪০টি পদের বিপরীতে চিকিৎসক মাত্র ৫, দুই বছর ধরে বন্ধ অস্ত্রোপচার

সার্জারি ও অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তীব্র সংকট এবং তীব্র জনবল ঘাটতির কারণে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ২০২৪ সালের শুরু থেকে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অথচ এই হাসপাতালে একসময় আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হতো এবং ২০২১ সালের শেষদিক থেকে প্রায় দুই বছরে সেখানে শতাধিক সিজারিয়ানসহ মোট ২৫৫টি সার্জিক্যাল অপারেশন করা হয়েছিল।

৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই জনবহুল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বর্তমানে মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের নির্ধারিত ৪০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ফলে প্রায় দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে প্রতিটি বিভাগের সামনে রয়েছে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৈনিক হিসাব অনুযায়ী, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ এবং জরুরি বিভাগে আরও ১০০ থেকে ১২০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে অনেক সময় রোগীর সংখ্যা ১১0 ছাড়িয়ে যায়, ফলে শয্যাসংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা ও ফ্লোরে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালটিতে আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন এবং একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্যাথলজিক্যাল ল্যাব থাকলেও পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ানের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ল্যাবের মাত্র একজন টেকনিশিয়ানকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির হোসেন ও ফরহাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসপাতালে উন্নত যন্ত্রপাতি ও অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্টের অভাবে অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় গরিব রোগীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে রোগীদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে পঞ্চগড় কিংবা অন্যত্র নিয়ে যেতে হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হুমায়ুন কবীর জানান, বর্তমানে অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট না থাকার কারণেই মূলত অপারেশন থিয়েটার সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না, যদিও জরুরি বিভাগে মাইনর অপারেশন, কাটা-ছেঁড়া ও সেলাইয়ের কাজ নিয়মিত চলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জরুরি ভিত্তিতে অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্টসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসক এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবলায়ন করা হলে আবারও পূর্ণাঙ্গ ওটি কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

০%
০%
০%
০%