প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী সফরে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে তাঁর গাড়িবহর ফেনীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফেনীতে নির্ধারিত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকায় ফিরে আসার কথা রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আজ বেলা সাড়ে ১২টায় জেলার পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করবেন। এরপর দুপুর দেড়টায় তিনি ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। পরবর্তীতে দুপুর ২টায় ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর।
দুপুরের দিকে ফুলগাজী ডাকবাংলোয় জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজ সারবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে সম্মানী প্রদান করবেন সরকারপ্রধান।
ফেনীর এই জনপদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রয়েছে নিবিড় পারিবারিক ও রাজনৈতিক আবেগঘন যোগসূত্র। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামেই তাঁর নানা এস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি অবস্থিত। এছাড়া তাঁর মা প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ফেনী-১ আসন থেকে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ফুলগাজী পাইলট স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ দিন পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই সুনির্দিষ্ট ও ব্যাপক উন্নয়নমুখী সফরকে কেন্দ্র করে ফেনী জেলাজুড়ে স্থানীয় প্রশাসন, দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।