সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নতুন নীতিমালা আসছে কোটা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব নিয়ে

দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রচলিত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) একটি নতুন এবং যুগোপযোগী খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যা বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে এই নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে।

প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন কোটার আওতায় মোট ১৪ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা সাপেক্ষে ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১ শতাংশ, এর অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার কর্মীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ, যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ এবং সহোদর-সহোদরার জন্য ৩ শতাংশ আসন বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে এই ১৪ শতাংশ কোটার পাশাপাশি লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত করতে অতিরিক্ত ১ শতাংশসহ মোট ১৫ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মাউশির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খসড়া নীতিমালাটি অনুমোদনের পূর্ণ এখতিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে রয়েছে এবং সেখানে প্রয়োজন সাপেক্ষে কিছু পরিমার্জন আসতে পারে। কোটা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কঠোর স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন—মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করতে হলে উপযুক্ত প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে এবং যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত কোটায় যোগ্য শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলে সেই আসনগুলো সাধারণ কোটার মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে, যা কোনো অবস্থাতেই খালি রাখা যাবে না। বিশেষ করে যমজ বা সহোদর কোটার ক্ষেত্রে একটি দম্পতির সর্বোচ্চ তিন সন্তান পর্যন্ত এই সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায়ও বিশেষ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে সংলগ্ন ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। নিবন্ধিত কোনো শিক্ষার্থী এক প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেলে তা শিক্ষা বোর্ডকে জানানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীর নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত হালনাগাদ করা যায়।

সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানদের ভর্তির ক্ষেত্রে বদলিজনিত জটিলতা নিরসনে বিশেষ ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। বদলির আদেশ জারির ১০ মাসের মধ্যে আবেদন সাপেক্ষে মহানগর ও বিভাগীয় শহরে কর্মস্থল ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে গুগল ম্যাপের দূরত্বের ভিত্তিতে এবং জেলা-উপজেলায় নিকটবর্তী সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানের ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রতি শ্রেণি শাখায় অতিরিক্ত ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া কর্মরত অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যু হলে কিংবা কোনো শিক্ষার্থীর বাবা-মা না থাকলে এবং বাসস্থান পরিবর্তিত হলে নতুন এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্যও তাদের কর্মস্থলের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে এই নতুন খসড়ায়।

০%
০%
০%
০%