ছয় মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণকাজের উদ্বোধনের ঘোষণা সরকারের

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই রাজবাড়ীসহ ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব আবেগ ও আশার সঞ্চার হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটিতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশার আলো দেখা দিয়েছে।

গত শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত সাইট পরিদর্শনে আসেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। এ সময় তাদের সঙ্গে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

সাইট পরিদর্শনে এসে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন যে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো একটি বৃহৎ প্রকল্পের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল যা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও জানান যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন এবং এই ব্যারেজ নির্মাণে সরকারি তহবিল ব্যয় করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দুই দশমিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারেজটি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে ওপারের পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত নির্মিত হবে। একনেকের সভায় এই প্রকল্পের জন্য ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পাস হয়েছে যার মধ্যে নদী শাসন, অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ, পাকা সড়ক, নানা অবকাঠামো এবং কুষ্টিয়ার হিসনা নদী, চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদী শাসনের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই প্রকল্পের ফলে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়াসহ মোট ১৯ জেলার মানুষ ব্যারেজের সুফল ভোগ করবে। একই সঙ্গে এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি শক্তিশালী জাতীয় নেটওয়ার্ক তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

০%
০%
০%
০%