সরাসরি জন দেখছেন আপডেট: ৪৫ মিনিট আগে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: তেলবাহী জাহাজে হামলা, ১০০ ডলারে উঠল অপরিশোধিত তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:২৬ পিএম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: তেলবাহী জাহাজে হামলা, ১০০ ডলারে উঠল অপরিশোধিত তেলের দাম

সারসংক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছুঁয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌযানকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়।

অন্যদিকে ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা দুটি মার্কিন নৌযান, আটটি তেলবাহী জাহাজ এবং আরও ১০টি ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ’ এলাকা অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

ইরানি বাহিনী আরও জানিয়েছে, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং বাকি দুটি খোলা এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে আম্মান।

এদিকে উপসাগরীয় জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, উত্তর উপসাগর ও ওমান উপসাগরে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘অচল করে দেওয়ার মতো হামলার’ শিকার হয়েছে। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর নিশ্চিত করতে পারেনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছে একটি কার্গো জাহাজ হামলার পর একদিকে হেলে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে। জাহাজটি পোর্ট রশিদের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে বলে ইউকেএমটিও জানিয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন নৌসম্পদের ওপর হামলার চেষ্টার জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখবে।

সংঘাতের প্রভাব এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমান ও জ্বালানি পরিবহনেও পড়তে শুরু করেছে। জার্মানির লুফথানসা গ্রুপ জানিয়েছে, আগামী মাসের শেষ দিক থেকে ধীরে ধীরে দুবাইগামী ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করায় পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

সরাসরি কাভারেজ

০৩:৩১ পিএম, ০৯ সেপ্টে (৪২ মিনিট আগে)

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধে ইরানকে ‘দমিয়ে রাখা’ কঠিন

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক লুসিয়ানো জাকারার মতে, চলমান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কেউই আপাতত আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে না। দুই পক্ষই হামলার শিকার হলে পাল্টা জবাব অব্যাহত রাখার কথা বলছে, ফলে সংঘাতটি পাল্টাপাল্টি হামলার এমন এক চক্রে আটকে গেছে যার আপাতত কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না।
জাকারার বলেন, পরিস্থিতি প্রশমনে নতুন কোনো পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে দুই পক্ষই অনিচ্ছুক। তাঁর মতে, ইরানের ওপর বাড়তি নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
তিনি বলেন, ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলে দুর্বল করে দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য। এর পাশাপাশি জাহাজ ও তেল স্থাপনায় সরাসরি হামলাও ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ বলে মনে হচ্ছে।

০৩:২৮ পিএম, ০৯ সেপ্টে (৪৫ মিনিট আগে)

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ

দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ গভর্নরেটের কাফর রেমান ও কাফর তেবনিত এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া বিনত জবাইল জেলার হাদাথা শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ও সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েল লেবাননে হামলা বন্ধ করে জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী দেশটি থেকে সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।