যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছুঁয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌযানকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়।
অন্যদিকে ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা দুটি মার্কিন নৌযান, আটটি তেলবাহী জাহাজ এবং আরও ১০টি ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ’ এলাকা অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
ইরানি বাহিনী আরও জানিয়েছে, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং বাকি দুটি খোলা এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে আম্মান।
এদিকে উপসাগরীয় জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, উত্তর উপসাগর ও ওমান উপসাগরে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘অচল করে দেওয়ার মতো হামলার’ শিকার হয়েছে। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর নিশ্চিত করতে পারেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছে একটি কার্গো জাহাজ হামলার পর একদিকে হেলে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে। জাহাজটি পোর্ট রশিদের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে বলে ইউকেএমটিও জানিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন নৌসম্পদের ওপর হামলার চেষ্টার জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখবে।
সংঘাতের প্রভাব এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমান ও জ্বালানি পরিবহনেও পড়তে শুরু করেছে। জার্মানির লুফথানসা গ্রুপ জানিয়েছে, আগামী মাসের শেষ দিক থেকে ধীরে ধীরে দুবাইগামী ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করায় পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।