ঝিনাইদহে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা, উদ্বেগজনক পরিসংখ্যানে এগিয়ে নারীরা

ঝিনাইদহ জেলায় আত্মহত্যার প্রবণতা দিন দিন এক ভয়ংকর ও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে, যা গোটা জনপদকে ভাবিয়ে তুলেছে। দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় এই অঞ্চলে আত্মহননের হার অনেক বেশি হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

পারিবারিক কলহ, মানসিক অশান্তি, কীটনাশকের সহজলভ্যতা, মাদকাসক্তি এবং বেকারত্ব এই জেলায় আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকাশিত গবেষণা ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই জেলায় প্রতি বছর গড়ে তিন থেকে চার শতাধিক মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষણમાં দেখা যায়, ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ঝিনাইদহে ৩ হাজার ১৫২ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন এবং একই সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ২২ হাজার ৬৭ জন। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে কেবল ২০২৫ সালেই জেলায় ৩০১ জন মানুষ আত্মহনন করেছেন, যার মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ১৬৮ জন।

বয়সের দিক থেকে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মাঝেও এই ব্যাধি দেখা দিয়েছে। জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে শৈলকূপা উপজেলা আত্মহত্যার দিক থেকে শীর্ষে অবস্থান করায় একটি বেসরকারি সংস্থা এই জেলাকে লাল তালিকায় রেখেছে।

জীবনের সংগ্রাম ও ব্যর্থতা মেনে না নিয়ে আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নেওয়া রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন নাগরিকরা এই আত্মঘাতী প্রবণতা রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%