ইসরায়েলি মন্ত্রীদের গাজা খালি করার নীতি প্রস্তাব ও হামলা অব্যাহত থাকায় প্রাণহানি বেড়ে পৌঁছেছে ৭৩ হাজার ছাড়িয়ে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতে জাতিগত নিধনের পরিকল্পনাগুলো এখন কেবল রাজনৈতিক স্লোগানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা নীতিগত প্রস্তাবে রূপ নিচ্ছে। গাজায় অব্যাহত প্রাণহানি এবং অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে বাড়িঘর ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে এই বিপজ্জনক প্রবণতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী মন্ত্রীরা গত সপ্তাহে গাজার ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। তারা এই অবৈধ ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সরকারি রূপরেখা তুলে ধরেন, যা গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম জুড়েই ধ্বংসযজ্ঞকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গত বুধবার এক সম্মেলনে গাজার ফিলিস্তিনিদের অপসারণকে একমাত্র সমাধান বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান যে, জলপথ, আকাশপথসহ সম্ভাব্য সব উপায়ে এটি বাস্তবায়নে তারা প্রস্তুত এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ধারণার প্রতি সমর্থন কেবল স্থগিত করেছেন, বাতিল করেননি।

এর পরেই জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সাত বছর মেয়াদী 'ডিসএনগেজমেন্ট ৭১০' নামক একটি পরিকল্পনা উন্মোচন করেন। এর মাধ্যমে তথাকথিত স্বেচ্ছামূলক অভিবাসনের কথা বলে গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং পুনর্বাচিত হলে তিনি একটি নতুন অভিবাসন মন্ত্রণালয় গঠনের ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে, তারা গাজার জনগণের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, বহিষ্কার বা বাধ্যতামূলক স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা সমর্থন করে না। তবে তারা ইসরায়েলি মন্ত্রী কাটজ বা বেন-গভিরের বক্তব্যের সরাসরি নিন্দা করা থেকে বিরত থাকে।

গাজায় প্রায় প্রতিদিনের বিমান ও সামরিক হামলায় মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে মানবিক পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত সংঘাতে ৭৩ হাজার ৬৫৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬২২ জন আহত হয়েছেন।

০%
০%
০%
০%