অধিকৃত পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অবরোধকে ‘অপরাধমূলক’ ও ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে সংস্থা দুটি জানায়, পশ্চিম তীরের রাস আল-আইন এলাকায় গত পাঁচ রাত ধরে তিন ফিলিস্তিনি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন একদল উগ্রবাদী বসতি স্থাপনকারী।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের তথ্য মতে, অবরোধের কবলে থাকা এই তিন পরিবারের ১৫ সদস্যের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। গত রবিবার থেকে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে পরিবারগুলোর জীবন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, দখলদার ইসরায়েলি শক্তির মদদে চালানো এসব অপতৎপরতার মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের ভিটেমাটি ছাড়া করে তাদের ভূখণ্ড দখল করা।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘সিস্টেম্যাটিক টেররিজম’ বা পরিকল্পিত সন্ত্রাস হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল সরকার বসতি স্থাপনকারীদের একটি অনিয়ন্ত্রিত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও অবৈধ ভূখণ্ড দখলের নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও বসতি স্থাপনকারীদের এই কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি সৈন্যরা অবরুদ্ধ পরিবারগুলোকে ঘর থেকে বের করে আনার চেষ্টা চালালেও, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে ভুক্তভোগীরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কুসরা গ্রামের মেয়র আব্দুল আজিম ওয়াদি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উল্টো বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষা দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেনাবাহিনীর এই তথাকথিত অভিযান কেবল লোক দেখানো একটি প্রহসন মাত্র।
কুসরা গ্রামের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা আব্দুল কারিম হাসান নিজের ঘর রক্ষার্থে গত সাত মাস ধরে গাড়িতে ঘুমাচ্ছেন। তিনি জানান, মাত্র ২০ জন বসতি স্থাপনকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসরায়েলি বাহিনীর এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়, কিন্তু তাদের নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণ করে যে তারা এই নিপীড়নে নীরব সমর্থন দিচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কুসরা গ্রামের বাসিন্দারা এই ধরনের সহিংসতার শিকার হয়ে আসছেন এবং অবৈধ বসতি স্থাপনের বিস্তারের কারণে এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
এদিকে, পশ্চিম তীরের অন্যান্য অঞ্চলেও দখলদার বাহিনীর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্যমতে, কাফর সুর, জালজোন ক্যাম্প এবং আল-জিফতলিকে ঘরবাড়ি ধ্বংসের নোটিশ জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া কালকিলিয়া এবং রামাল্লার নিকটবর্তী বুরকা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। জেনিন ও তুলকারেমের নিকটবর্তী এলাকায় নতুন করে অবৈধ চৌকি নির্মাণের খবরও পাওয়া গেছে।